চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত কর্মকর্তা ডিএডি মো. মোতালেব। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–এর সদস্য এবং র্যাব ৭ – এ কর্মরত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীদের ধরতে র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একাধিক সদস্য আহত হন এবং পরে একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় চার দশক ধরে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে হাজার হাজার বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব বসতি ও প্লট বাণিজ্য রক্ষার জন্য সেখানে একটি সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র চক্র গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এলাকাটিতে বসবাসকারীদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র ব্যবস্থা রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। অতীতেও একাধিক অভিযানের সময় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অবৈধ দখল ও অপরাধ কার্যক্রমের পেছনে দুটি শক্তিশালী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অন্যটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা নিয়ন্ত্রণ করেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এই দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। পাহাড়ি জমি দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন ও প্লট বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চক্রগুলোর ভয়াবহ প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার উচ্ছেদ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
