বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সব দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ দীর্ঘদিনের এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, কোন দল ক্ষমতায় আছে বা থাকবে—তা নির্বিশেষেই যুক্তরাষ্ট্র সব দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক আলাপ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিনের। গত দুই দশকে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার ২০০৪ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন একজন পর্যটক হিসেবে। এরপর ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন দূতাবাসে ডেস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বিএনপি সরকার, ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গেও কাজ করছেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার কে হবে, তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। এটি জনগণের সার্বভৌম অধিকার, যেখানে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা ইতিবাচক এবং এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
আলোচনা শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে কীভাবে যৌথভাবে কাজ করা যায়, সে দিকেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
