পুঁজিবাজারে শেয়ার কারসাজির ঘটনায় আলোচিত ফাইন ফুডস লিমিটেডের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানির পরিচালক মো. সালাউদ্দিন হায়দারসহ পাঁচ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসির জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফাইন ফুডসের শেয়ার লেনদেনে কারসাজি হয়েছে। ওই সময়ে শেয়ারের সমাপনী দাম ১৫৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এ লেনদেনের তদন্ত করে বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন পাঠায়। তদন্তে ফাইন ফুডস শেয়ার মূল্যের সঙ্গে কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে মুনাফা ও সম্পদ বেশি দেখানোর বিষয়টি ধরা পড়ে।
ফাইন ফুডসের শেয়ার কারসাজির দায়ে যে পাঁচ ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে, তার মধ্যে অভিজিত দাশকে ৫৮ লাখ টাকা, মো. সানোয়ার খানকে ২৫ লাখ, আসমাউল হুসনাকে ৯ লাখ, মো. আনোয়ার পারভেজ খানকে ২ লাখ ও ফাইন ফুডসের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন হায়দারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মো. সালাউদ্দিন হায়দার কোম্পানিটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। মো. সানোয়ার খান সিটি ব্যাংক পিএলসির পুঁজিবাজার বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। মো. সানোয়ার খানের স্ত্রী আসমাউল হুসনা ও ভাই মো. আনেয়ার পারভেজ খান। পাশাপাশি এ কারসাজির ঘটনায় এসএসএস হোল্ডিংস লিমিটেডকে (মো. সানোয়ার খানের প্রতিষ্ঠান) ১৭ লাখ ও সিটি ব্যাংককে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।
ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শেয়ার মূল্যে কৃত্রিমভাবে প্রায় ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছিল। ওই সময় শেয়ারের দাম ৬০.৯০ টাকা থেকে ১২৩ টাকায় পৌঁছায়।
বিএসইসি জানিয়েছে, এ কারসাজির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। আদেশ জারি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে।
ফাইন ফুডস লিমিটেড ২০০২ সালে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ১৩.৯২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬২.০৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
