ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (IFF) সভাপতি মেহদি তাজ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানিয়েছিলেন, “এই আক্রমণ ও সহিংসতার পর আমরা বিশ্বকাপের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকাতে পারি না।” একই সঙ্গে তিনি ঘরোয়া লিগও স্থগিত ঘোষণা করেন।
ইরান জাতীয় ফুটবল দল, যাকে ‘টিম মেল্লি’ বলা হয়, ইতোমধ্যেই টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলস এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ফিফা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এ মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেছেন, “এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা অনুচিত হবে। আমরা পরিস্থিতি মনিটর করছি।”
২০২৬ বিশ্বকাপের নিয়মাবলির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশ ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতিতে সরে গেলে ফিফা তাদের জায়গায় অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, যদি ইরান সরে দাঁড়ায়, তবে এশিয়া অঞ্চলের কোনো দলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই আটটি এশীয় দল বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে কোনো দল এখনও অংশগ্রহণ বাতিল করেনি। তবে ইতিহাসে ১৯৯২ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে যুদ্ধের কারণে যুগোস্লাভিয়া বাদ পড়লে ডেনমার্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা পরে শিরোপা জয়ের দিকে এগোয়। এছাড়া ২০২২ সালে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ইউক্রেন হামলার প্রেক্ষিতে।
ফলে ইরানের অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়নি। দেশটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা জারি রয়েছে।
