কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালীর দূর্নীতিবাজ রেঞ্জ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে

বিশেষ সংবাদদাতা :

2 Min Read

সুফল প্রকল্পে অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. সাদেকুর রহমান। তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পাহাড় কাটা, মাটি ও কাঠ পাচারে সহযোগিতা, মাসিক মাসোহারা গ্রহণ এবং বনভূমি জবরদখলে মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানা যায়, বনরক্ষার দায়িত্বে থেকেও তিনি বনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মাসিক চুক্তিভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বন উজাড়ের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি পাহাড় কাটার ঘটনা নিয়ে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক ‘সহনশীলতা’ দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি জবরদখল ও বসতঘর নির্মাণেও নীরব ভূমিকা রাখার পাহাড়সম অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে দায়িত্বে থাকাকালীন কুমিরা রেঞ্জে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বাস্তবায়িত ‘সুফল’ প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাগান সৃজন কার্যক্রমে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সে সময় সাদেকুর রহমান কুমিরা রেঞ্জে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ দৃশ্যমান হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তীতে তাকে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকে অদৃশ্য শক্তিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অর্থের একটি বড়ো অংশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ মোল্যা রেজাউল করিমের নামে সংগ্রহ করেন সাদেকুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে ফরেস্টার ও ডেপুটি রেঞ্জার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পদায়ন ও নানা দুর্নীতির এ অর্থ লেনদেনে তিনিই ভূমিকা রাখেন। এ বিষয়ে সাদেকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিয়েও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *