আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত অস্ত্রগুলোর একটি হলো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।এমন কি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং ধ্বংসাত্মক অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি মানা হয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে। যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়িয়ে দ্রুত উড়ে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্রকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কী
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এমন একটি অস্ত্র, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিতে উড়তে পারে। বিজ্ঞান ভাষায় একে ম্যাক–৫ বা তার বেশি গতি বলা হয়। তুলনামূলকভাবে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও অনেক দ্রুতগতির হলেও সেগুলো নির্দিষ্ট পথে চলে। কিন্তু হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উড়ন্ত অবস্থায় দিক পরিবর্তন করতে পারে, ফলে তা শনাক্ত করা ও প্রতিরোধ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনসহ কয়েকটি দেশ এই প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে এবং কিছু দেশ ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
কেন এটি এত ভয়ংকর
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান শক্তি এর গতি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। অত্যন্ত দ্রুতগতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় আগাম সতর্কতা পেলেও তা ধ্বংস করা কঠিন হয়ে যায়। একই সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র খুব নিচু দিয়ে উড়তে পারে এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত বিস্ফোরক বহন করতে পারে, আবার পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতাও থাকতে পারে।
এতে কেমন ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে। এর উচ্চ গতি ও শক্তির কারণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের সময় তীব্র বিস্ফোরণ ও ধ্বংস ঘটে। সামরিক ঘাঁটি, বিমানঘাঁটি, জাহাজ, রাডার স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে।
যদি এতে পারমাণবিক ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। তবে প্রচলিত ওয়ারহেড ব্যবহার করলেও উচ্চ গতির কারণে আঘাতের শক্তি অত্যন্ত বেশি হয়।
বিশ্বে হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা
বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে এখন হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করছেন, এই ধরনের অস্ত্রের বিস্তার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে তীব্রতর করতে পারে।
প্রদর্শন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয় ইরানের ব্যবহারের দাবি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, ১০ মার্চ ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। তবে এই হামলায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
-ইন্টারনেট থেকে।
