জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দেশে আসছে। আগামী চার দিনের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি নিয়ে তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ভিড়বে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ নামের একটি ট্যাংকার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ আগামী বুধবারের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ আসে কাতার থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে আসার কথা থাকা কয়েকটি ট্যাংকার বিলম্বিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি এখনও রাস লাফান বন্দর এলাকায় আটকে রয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত সাতটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে এসেছে, যেখানে সাধারণ সময়ে মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আগমন ঘটে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
তারা আরও জানান, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও আপাতত দেশে বড় ধরনের এলএনজি সংকটের আশঙ্কা নেই।
