কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ: বদলি আদেশ উপেক্ষা করে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিন বহাল তবিয়তে

বিশেষ সংবাদদাতা :

4 Min Read
রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিন

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বদলি আদর্শের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা রেঞ্জার ফিরোজ আল আমিন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও এসিএফ’র বিশেষ আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়ায় বদলি আদেশকে তিনি থোড়াই কেয়ার করছেন। শুধু তাই নয়, পাহাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি ও অবৈধ কাঠ বোঝাই ট্রাক ধরে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় পরিবেশ প্রেমীরা জানিয়েছেন, ইনানী রেঞ্জের আওতাধীন রাজাপালং, জালিয়াপালং ও ছোয়ানখালীতে ছোট-বড় গাছ কেটে বিক্রি, ঝাউগাছ নিধন, পাহাড় কেটে সমতল ভূমি তৈরি, বনভূমি দখল ও বেচাকেনা, করাতকল পরিচালনা, বালু ও মাটি উত্তোলন এবং বনভূমিতে নতুন ঘর নির্মাণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, যেখানে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও এসিএফ’র আস্থাভাজন ও অবৈধ আয় বর্ধনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় ওই ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিনের কদরও আলাদাভাবে বেশী। ডিএফওর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করা ওই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অন্যান্য বনকর্মীরা একটু খাতির যত্নও বেশি করতে হচ্ছে। তাকে খুশি করা না গেলে কৌশলে ফাঁদে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

উল্লেখ্য, ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিনের ৬ মাস আগে বদলি আদেশ হলেও এখনও রেঞ্জের দায়িত্ব ছাড়েনি। লোভনীয় রেঞ্জে কর্মকর্তার দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ তিনি। তিনি প্রতিরাতে টহল করে মাটি বোঝাই, চোরাই কাঠ বোঝাই ট্রাক ধরে টাকা আদায় করছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে। বদলি হলেও তিনি উচ্চ পর্যায়ে তদবির করে তা ঠেকিয়ে বহাল তবিয়তে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে এই রেঞ্জে কর্মরত থেকে পাহাড় কাটা, বনের জমি দখল, বিক্রি, গাছ বিক্রি, ফার্নিচার পাচারের গাড়ী আটক করে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেয়। সুফল ও প্রকল্পের হিসাবে বিভিন্ন জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন এই ফিরোজ আল আমিন।

অভিযোগ উঠেছে, ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিনের চরম উদাসীনতা এবং কতিপয় অসাধু বনকর্মীর প্রত্যক্ষ লালসার বলি হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সংরক্ষিত বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় বাগান সৃজন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে, এমনকি দাতা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেল্প’ প্রকল্পের বনায়ন কার্যক্রমও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে জানা যায়। ইনানী রেঞ্জের এই অরাজক পরিস্থিতির পেছনে জনশ্রুতি রয়েছে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের, যার অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে আঙুল উঠেছে রেঞ্জার ফিরোজ আল আমিনের দিকে। রেঞ্জ কর্মকর্তার প্রভাবে বনের জমি বিক্রির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে, যা আগে কখনো এতোটা বেপরোয়া ছিল না।

অভিযোগের তীর আরও গভীরে, যেখানে গুঞ্জন রয়েছে যে এই অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যা বনবিভাগের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ইনানী, ছোয়ানখালীসহ বনভূমি দখল, দালান নির্মাণে মামলার আড়ালে নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকা এবং উচ্ছেদ অভিযানে অনীহা প্রমাণ করে যে, রক্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই ইনানী বনভূমি আজ ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। আইনি মারপ্যাঁচের আড়ালে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ না হলে অচিরেই এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে হারিয়ে যাবে। এবিষয়ে জানতে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিনকে একাধিক বার কল দিয়েও মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্হা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *