শতভাগ বই বিতরণে নতুন রোডম্যাপ, ৩১ কোটি কপি ছাপাবে এনসিটিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

বছরের শুরুতে আংশিক বই বিতরণ এবং বাকি বই পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই দেশের চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর হাতে একযোগে শতভাগ নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই মুদ্রণ ও সরবরাহের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের একটি সুসংহত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, ১ জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে সম্পূর্ণ নতুন বই পৌঁছে দেওয়া।’

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ৫১ লাখ কপি বই ছাপানো হবে, যার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই রয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও সমমানের স্তরে প্রায় ২২ কোটি ১০ লাখ কপি বই মুদ্রণ করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা।

এনসিটিবি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। এরপর নভেম্বরের মধ্যেই মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষ করে মাঠপর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘সময়ের মধ্যে নির্ভুল ও মানসম্মত পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজও চলছে। প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৬০১টি বই সংশোধন করা হচ্ছে। এতে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ যুক্ত আছেন। জুলাইয়ের মধ্যেই এই কাজ শেষ হওয়ার কথা।

এনসিটিবি আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে নতুন কিছু বইও যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলাভিত্তিক একটি বই এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

- Advertisement -

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে আংশিক বই দিয়ে বছর শুরু হতো, আর বাকি বই পেতে মার্চ-এপ্রিল লেগে যেত। এবার সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে বছরের শুরুতেই সব বই দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের শুরুতেই সম্পূর্ণ বই হাতে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *