দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য করসুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই সুবিধা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কর অব্যাহতির এই সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত আয় বৈধ চ্যানেলে, বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আনতে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ফ্রিল্যান্সিং খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। এ খাতের বিকাশে নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতির বড় অংশ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফ্রিল্যান্সিং আয়ে করছাড় বাড়ানো হলে এই খাতে বৈধ লেনদেন বাড়তে পারে, তবে এর সঠিক বাস্তবায়ন ও নজরদারি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
