পদোন্নতির মাত্র একদিনের মাথায়ই তা বাতিল করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ফ্লাইট সার্ভিস) পদে উন্নীত এক কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে জারি করা এক আদেশে ফ্লাইট সার্ভিস ম্যানেজার শেহনাজ বেগমকে উক্ত পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও, পরদিন বুধবার নতুন আদেশে তা বাতিল করা হয়।
শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, শেহনাজ বেগমের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চাকরিতে যোগদানের ৩৩ বছর পর জন্মতারিখ পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত এক বছর চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার আচরণে পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে এবং অধস্তনদের ওপর অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করেন। ডিউটি বণ্টনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে, যা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।
বিমান সূত্র জানায়, পরিকল্পনা ও শিডিউলিং বিভাগের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি কেবিন ক্রুদের ডিউটি নির্ধারণে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তার রাজনৈতিক মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারী কর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট, অস্বস্তিকর সময়সূচি এবং কম বিশ্রামের ডিউটি দেওয়া হতো। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠদের জন্য সুবিধাজনক রুট ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হতো।
১৯৮৯ সালে ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস হিসেবে বিমানে যোগ দেন শেহনাজ বেগম। তার চাকরির প্রাথমিক নথিতে জন্মতারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮। তবে ২০২১ সালে একটি নথিতে তা পরিবর্তন করে ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ করা হয়, যার ফলে তিনি অতিরিক্ত এক বছর চাকরিতে থাকার সুযোগ পান।
এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভিভিআইপি ফ্লাইট থেকে রাজনৈতিক কারণে দুইজন ক্রুকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায়ও তার নাম জড়ায়। ওই ঘটনার পর তাকে লাইন ক্রুতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও পরে তাকে ফ্লাইট সার্ভিস ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যেখানে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ২৫ মে রোমগামী একটি ফ্লাইটে ১৫ মিনিট বিলম্বের ঘটনায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ফ্লাইট লগ অনুযায়ী, কেবিন ক্রুর নাম জেনারেল ডিক্লারেশনে পরিবর্তিত থাকলেও তা যাচাই না করায় এই বিলম্ব ঘটে। তবে এ ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে শেহনাজ বেগমকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার পদোন্নতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
