সাভার পৌর এলাকা জয়পাড়া মহল্লায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পৌর প্রশাসন। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
সাভার পৌর প্রশাসকের নির্দেশে জামসিং জয়পাড়া এলাকায় ড্রেন নির্মাণের নামে টাকা তোলার অভিযোগ তদন্তে বুধবার এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহিদুজ্জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহানারা আক্তার, পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ছামসুদ্দিন এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা আল মামুন।
মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় সাভার পৌরসভার জামসিং জয়পাড়া এলাকায় দুটি উন্নয়নকাজ চলছে।
প্রায় তিন মাস আগে প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতীয়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পৌরসভার প্রকৌশলীদের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণের কাজ হবে না।
ওই ঘোষণার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
টাকা দেওয়ার পর এলাকাবাসী জানতে পারে, প্রকল্পটি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে এবং এ কাজে স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই টাকা ফেরতের দাবি ওঠে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও দীর্ঘদিন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরে ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমদাদুল হক মঙ্গলবার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন। এর পরদিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তবে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ না করায় তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের মতে, এতে তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তে পৌরসভার কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
