সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামোর মূল বেতন চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও ভাতা কার্যকর হবে আগামী অর্থবছর (২০২৭-২৮) থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোর আওতায় আগস্ট থেকেই বেতন কার্যকরের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করা, প্রশাসনিক আদেশ জারি, গেজেট প্রকাশ এবং কারিগরি প্রস্তুতির কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে বকেয়াসহ বেতন পরিশোধ করা হবে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা অপরিবর্তিত থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে, সে কারণে নতুন কাঠামো প্রয়োজন।
এ জন্য নবম বেতন কাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের হিসাবে, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর খসড়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সচিব কমিটি কমিশনের কিছু সুপারিশ সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছে, বিশেষ করে ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা কিছুটা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
শুরুতে সরকার তিন ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তা করলেও পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়। তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমে কারিগরি জটিলতা এড়াতে একবারে মূল বেতন কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং গত জুলাই থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এসব সুবিধা সমন্বয় করা হবে।
