ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। রোববার সকালে জানাজা শুরুর আগেই তেহরানের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, স্থানসংকুলান না হওয়ায় জানাজা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে মসজিদ কমপ্লেক্সের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও অসংখ্য মানুষ আশপাশের সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিয়ে জানাজায় অংশ নেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি জানাজায় ইমামতি করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদি।
সামনের সারিতে ছিলেন খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মুস্তফা। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানাজায় অংশ নেননি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী আবতাহি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে ইরান সরকার।
শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। শনিবার থেকে শুরু হওয়া শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা রোববার বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, কয়েক দফা জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।
