সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সবার অংশগ্রহণ চান প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read
ছবি - পিএমও

বাংলাদেশকে একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলবায়ু-সহনশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারলেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা শুধু বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে পরিণত করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘দেশ হোক সব প্রাণী ও জীবনের নিরাপদ আবাসস্থল।’

সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নতুন সদস্যের জন্ম উপলক্ষে একটি গাছ রোপণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে একদিকে নতুন প্রাণের আগমন উদযাপিত হবে, অন্যদিকে সবুজায়নও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছের সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ধারণার ভিত্তিতে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। দেশীয়, ফলদ, বনজ, ঔষধি ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারের পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্কুলে একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সহায়তার জন্য স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় বন উজাড়, পাহাড় কাটা, জলাভূমি ভরাট ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় পরিবেশব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

নদী রক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী বাঁচানো না গেলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ কারণে নদী, খাল ও জলাভূমি রক্ষাকে পরিবেশ সংরক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

- Advertisement -

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতেও সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড় ও নদী ভরাটের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করেই টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। পাশাপাশি বনায়নের অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

- Advertisement -

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *