শিক্ষার্থীদের শপথ থেকে বাদ পড়ল মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

জোবায়ের আহমেদ, ঢাকা :

3 Min Read
ছবি - সংগৃহীত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের সমাবেশে পাঠযোগ্য শপথবাক্যে পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন শপথ থেকে বাদ পড়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার উল্লেখ।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-১) মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব মাধ্যমিক, কলেজ ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন থেকে এই নতুন শপথ পাঠ করা হবে।

নতুন শপথবাক্যটি হলো –

    আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। হে মহান আল্লাহ/মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আ-মি-ন।

২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ যে শপথটি চালু করা হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল-

   আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে শপথ করছি যে, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব। মহান সৃষ্টিকর্তা, আমাকে এই শপথ পালন করার শক্তি দিন। আ-মি-ন।

এর আগে ২০১৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশে শপথবাক্যে “অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না” অংশটি যুক্ত হয়েছিল। নতুন শপথে এই অংশটি রাখা হলেও বাদ পড়েছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মতো বিষয়গুলো।

গত ২০ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শপথেও একই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তখন ক্ষমতার পালাবদলের পর শিক্ষাব্যবস্থায় আদর্শিক রূপান্তরের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের পর শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রচেষ্টা বললেও, অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এতে ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতা দুর্বল হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো শপথ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *