রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, খুব শিগগিরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে মুখোমুখি বসানো হবে। এতে তিনি নিজেও সরাসরি উপস্থিত থাকবেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকের পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেনের নিরাপত্তা, যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তি।
বৈঠকের মাঝপথে ট্রাম্প সরাসরি টেলিফোনে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। প্রায় ৪০ মিনিটের ওই আলাপ শেষে ট্রাম্প ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে লিখেন, পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠক আয়োজনের কাজ শুরু করেছি। এরপর একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে, যেখানে আমিও থাকব।
যুদ্ধবিরতি নয়, সরাসরি শান্তিচুক্তি ট্রাম্প বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেন, কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, তার লক্ষ্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি চুক্তি। তিনি ঘোষণা দেন, ক্রাইমিয়া ইউক্রেন ফেরত পাবে না এবং ইউক্রেন ন্যাটো সদস্যপদ থেকেও সরে আসবে। তবে আমরা ইউক্রেনকে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেব।
ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউক্রেনের প্রচলিত দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইউক্রেন এখন পর্যন্ত রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রাইমিয়াকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে এবং ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বৈঠকের পর জেলেনস্কি একে ‘গঠনমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউক্রেন স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যেকোনো ফরম্যাটে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এদিকে বৈঠকে উপস্থিত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা ভাঙতে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে ক্রাইমিয়া ও ন্যাটো ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব ইউক্রেনের অভ্যন্তরে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রাশিয়া এ ধরনের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেই মনে করছেন অনেকে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথমবার কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে সরাসরি শান্তি আলোচনায় যুক্ত করতে যাচ্ছেন। তাই আসন্ন বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নজর এখন হোয়াইট হাউসের দিকে।
