বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবি এক ধরনের সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। বিকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, কোনো দলের নাম না নিয়ে যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে পিআর পদ্ধতিতে ভোট না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এগুলো দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবস্থান। “আজকে এই বিষয়কে এত সামনে নিয়ে আসা আমি মনে করি, এটা সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। এটা কারও জন্যই কোনো মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে না,” তিনি বলেন।
জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসায় ক্যান্সার আক্রান্ত এনামুল হাসান ফারুকীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এই ভিজিটে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়্যারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফারুকীর কাছে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন।
রিজভী নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এলাকার মানুষ যদি তাদের প্রতিনিধিকে আগে থেকে চিনতে না পারে তাহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে—কিভাবে তারা ঠিক করবেন কে তাদের প্রতিনিধি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যদি কোনো প্রার্থী সেই এলাকারই জানা-পরিচিত না হন তাহলে মানুষের ধারণা কীভাবে হবে তিনি কে?”
আরও বলেন, এ অঞ্চলে শতবর্ষ ধরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস হাজী শরীয়তউল্লাহ, পীর মহসিন উদ্দিন, নেসার আলী তিতুমীরসহ অনেক বীরের ত্যাগ আছে। তাদের রক্তে অর্জিত ঐতিহ্য বিনষ্ট করে কোনোভাবে ইসলামী শিক্ষা বা মাদ্রাসা উচ্ছেদ করা যাবে না; এমন চেষ্টা বারবার হয়েছে কিন্তু সফল হয়নি।
ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে পরাজিত পক্ষের লোকজনই কোনোভাবে নির্বাচিত সংগঠনের পক্ষে ভোট দিচ্ছে এটা উদ্বেগজনক লক্ষণ। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, রাজনৈতিক গেইম থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করলে এবং গোপন আঁতাত করলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে কারণ এর পিছনে রয়েছে এমন একটি শক্তি যা ইসলামকে সহ্য করে না এবং বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বকে নস্যাৎ করতে চায়।
বক্তৃতা ও অনুষ্ঠানে হেফাজত নেতারা জুনায়েদ আল হাবিব, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হেদায়েতুল্লাহ কাসেমী, জাবের কাসেমী, সানাউল্লাহ মাহমুদী, নূর মোহাম্মদ, জাকির হোসেন কাসেমী, সালেহ আহমদ আজম ও এনায়েত উল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ প্রতিনিধি দলে ছিলেন আতিকুর রহমান রুমন (আহ্বায়ক), আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, মোকছেদুল মোমিন মিথুন ও সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি।

