অকালপ্রয়াণের ১৮ বছরেও আলো ছড়াচ্ছেন সঞ্জীব চৌধুরী

প্রগতিশীল চিন্তা, মানবিকতা এবং সঙ্গীতে আধুনিকতার অনন্য মিশ্রণ সব মিলিয়ে সঞ্জীব চৌধুরী আজও বাংলা সংগীত ও সাংবাদিকতায় অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
সঞ্জীব চৌধুরী

নন্দিত কণ্ঠশিল্পী, গীতিকবি ও সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীর প্রয়াণ দিবস আজ। ১৮ বছর আগে এই দিনে, ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁর স্মরণে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন হলেও চলমান পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় এবার তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন দেখা যায়নি। তবু ভক্ত-অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণা, গান ও অনুভূতি শেয়ার করে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

নব্বই দশকের বাংলা ব্যান্ডসংগীতে নতুন শব্দ ও সুরের ভুবন তৈরি করেছিলেন সঞ্জীব চৌধুরী। তাঁর ব্যান্ড দলছুট এবং একক অ্যালবামের গানগুলো বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ‘আহ’, ‘হৃদয়পুর’, ‘আকাশচুরি’, ‘জোছনাবিহার’, ‘স্বপ্নবাজি’সহ বহু অ্যালবামের গান তাঁকে জনপ্রিয়তার উচ্চশিখরে পৌঁছে দেয়। ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘সাদা ময়লা রঙিলা পালে’, ‘এই নষ্ট শহরে’, ‘রিকশা কেন ধীরে চলে না’, ‘ভাল্লাগেনা’, ‘গিটার’, ‘কালা পাখি’, ‘বায়োস্কোপ’—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মনে অনুরণিত হয়। বাংলা ব্যান্ডসংগীতে তিনি থেকে গেছেন ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্র হয়ে।

গানের পাশাপাশি সাংবাদিকতার জগতেও দারুণ স্বাক্ষর রেখে গেছেন সঞ্জীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি। আশির দশকেই তিনি যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। সাপ্তাহিক উত্তরণ দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি কাজ করেছেন আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং পরে দৈনিক যায়যায়দিন -এ ফিচার এডিটর হিসেবে। তাঁর লেখনী বদলে দিয়েছিল ফিচার সাংবাদিকতার ধারা। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি; রাজপথে কোরাস গেয়ে, তাৎক্ষণিক গান লিখে আন্দোলনকে উজ্জীবিত করতেন।

পারিবারিক পরিবেশ থেকেই সঙ্গীত চর্চার সূচনা সঞ্জীবের। গানের কথা লেখা, সুর দেওয়া ও গাওয়া সবক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতা। সংগীতজ্ঞ বারীন মজুমদারের পুত্র সঙ্গীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ১৯৯৬ সালে গড়ে তোলেন ব্যান্ড দলছুট। ‘গাড়ি চলে না’, ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায়’, ‘আগুনের কথা বন্ধুকে বলি’ এমন অনেক জনপ্রিয় গান তাঁর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পায়।

অকাল প্রয়াণের পরও তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রগতিশীল চিন্তা, মানবিকতা এবং সঙ্গীতে আধুনিকতার অনন্য মিশ্রণ সব মিলিয়ে সঞ্জীব চৌধুরী আজও বাংলা সংগীত ও সাংবাদিকতায় অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নাম।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *