দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে অভিযোগ আর নাটকীয়তায় ভরপুর এক দিনে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকাল ৫টায় শেষ হয়। বড় ধরনের কোনো সহিংসতা না ঘটলেও অনিয়ম, কারচুপি এবং প্রার্থীদের প্রতিবাদে একাধিকবার ভোট স্থগিত রাখতে হয়েছে।
ঢিমেতালে শুরু, বৃষ্টিতে ভোগান্তি
সকাল থেকে ভোট পড়ছিল ধীরগতিতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও হঠাৎ শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে সমস্যা না হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায় ১২ হাজার ভোটারের এই ক্যাম্পাসে শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ ভোট পড়েছে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
কোথায় কী অনিয়ম?
-
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল: ব্যালট পেপারে ভুল ছিল। কার্যকরী সদস্য পদে তিনজনকে ভোট দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ব্যালটে একজনের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে তা সংশোধন করা হয়।
-
বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হল: অনিয়মের অভিযোগের পর ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে প্রায় সোয়া ঘণ্টা।
-
শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হল: একই কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে আধা ঘণ্টা।
-
নারী কেন্দ্রগুলো: সাংবাদিক, এমনকি নারী সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ ও বর্জন
দুপুরে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না পেরে অভিযোগ করেন। পরে ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসানও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে হলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি জটিল হয়। এর পরপরই ছাত্রদলীয় প্যানেলের পক্ষ থেকে দুপুর সাড়ে ৩টায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আসে।
সংবাদ সম্মেলনে বৈশাখী বলেন, “জামায়াত শিবিরঘনিষ্ঠ একটি কোম্পানিকে টেলিকাস্ট ও ভিডিও ক্যামেরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো নির্বাচন মনিটর করে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে শিবিরের হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে।”
ভোট বয়কটের আগে ওঠা অভিযোগগুলো :
ব্যালট পেপারের চেয়ে বেশি ভোটপত্র দেওয়া হয়েছে, প্রতিপক্ষ আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে জামায়াত সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে ব্যালট ও ওএমআর মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে, পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, ডোপটেস্টের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন হাতে গোনার সিদ্ধান্ত নেয়। হলে হলে গণনা শেষে সিনেট হলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।
কারা লড়ছেন?
-
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন: ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জিএস মো. শাকিল আলী।
-
ছাত্রদল: ভিপি শেখ সাদী হাসান, জিএস তানজিলা হোসেন বৈশাখী।
-
ইসলামী ছাত্রশিবির (সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট): ভিপি আরিফুল্লাহ আদিব, জিএস মাজহারুল ইসলাম।
-
বাগছাস (শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম): ভিপি আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল, জিএস আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম।
-
সম্প্রীতির ঐক্য: ভিপি অমর্ত্য রায় জনের প্রার্থিতা বাতিল; জিএস শরণ এহসান, এজিএস (পুরুষ) নূর এ তামীম স্রোত, এজিএস (নারী) ফারিয়া জামান নিকি।
-
ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রফ্রন্ট (সংশপ্তক পর্যদ): জিএস জাহিদুল ইসলাম ঈমন, এজিএস (নারী) সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস।
ভোটার ও প্রার্থী সংখ্যা :
-
মোট ভোটার: ১১,৮৪৩ (ছাত্র ৬,১১৫, ছাত্রী ৫,৭২৮)।
-
কেন্দ্রীয় সংসদ: ২৫টি পদে ১৭৮ জন প্রার্থী (পুরুষ ১৩২, নারী ৪৬)।
-
হল সংসদ: ২১ হলে ৩১৫ পদে ৪৪৭ জন প্রার্থী (ছাত্র ৩১৬, ছাত্রী ১৩১)।
-
প্রতিটি ভোটার ভোট দেবেন সর্বোচ্চ ৪০টি পদে।
