চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন আদালতের আদেশে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান ও মামলার প্রেক্ষিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক স্বাক্ষরিত এক নথিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের মাধ্যমে এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা।
আদালতের ২০টি আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮৯১ একর জমি, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, একটি খেলার মাঠ, একটি স্কুল, দুটি দোকান এবং ছয়টি গাড়ি। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রদত্ত মূল্যের ভিত্তিতে এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ টাকা।
এছাড়া আদালতের ১৫টি আদেশে বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাব, যেখানে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বীমা পলিসিসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অবরুদ্ধ সম্পদের তালিকায় আরও রয়েছে একাধিক ক্রেডিট কার্ড, এসএনডি ও সিডি হিসাব এবং একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।
দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তদন্ত চলাকালে এসব সম্পদ স্থানান্তর বা বিক্রি ঠেকাতেই আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
