দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংক খাত থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবারও (১৫ সেপ্টেম্বর) নিলামের মাধ্যমে ২৬টি ব্যাংক থেকে কেনা হয়েছে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের আড়াই মাসে এ নিয়ে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এতে একদিকে ডলারের দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত তিন অর্থবছর ধরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উল্টো পথে হেঁটে বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “বাজারে সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকায় জুলাই থেকে ডলার কেনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭৫ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ক্রয়ে প্রতি ডলারের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা। বর্তমানে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এর পরিমাণ ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। বাজার থেকে ডলার কেনার পাশাপাশি বিদেশি ঋণপ্রবাহও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়া বা কমা—দুটোই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রধান লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “দেশে খাদ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে, বিদেশি দায়ও অনেকটা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে সহসা ডলারের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হবে না। বরং বাড়তি ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে এবং ডলারের স্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হবে।
