দেশে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাঠ প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রম বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির সুপারিশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এর লক্ষ্য—বিনিয়োগের আগে মানুষকে শিক্ষিত করা, সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি হ্রাস করা। বিএসইসি মনে করছে, প্রশাসনকে যুক্ত করলে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ‘ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও বিনিয়োগ সচেতনতা’ শীর্ষক লিঙ্ক যুক্ত করতে হবে, যা বিএসইসির ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের সাথে সংযুক্ত থাকবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএসইসি আয়োজিত সেমিনার ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় ‘বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জেলা তথ্য অফিসের সহায়তায় বিনিয়োগ শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালাতে হবে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ) বা সিনিয়র সহকারী কমিশনারকে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ ও সহযোগিতা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় তথ্য বাতায়নে বিএসইসির বিনিয়োগ শিক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব লিঙ্ক সংযুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও নাগরিকদের বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করলে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম সারা দেশে নতুন গতি পাবে। বিনিয়োগে ঝুঁকি কমাতে এবং জনসাধারণকে সচেতন করতে প্রশাসনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষক ও অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ জনি বলেন, প্রশাসন, বিনিয়োগকারী, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণে সচেতন বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। তবে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রশিক্ষণ, বাজেট ও ধারাবাহিক মনিটরিং প্রয়োজন।
