কুরিয়ার পণ্যজট কমাতে বিমানবন্দরের বাইরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স চালুর উদ্যোগ

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

জায়গা সংকট ও সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট জট নিরসনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে বিকল্প কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কুরিয়ার ও এয়ার এক্সপ্রেস চালানের পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে গত ১০ ডিসেম্বর বিডা ভবনে একটি স্টেকহোল্ডার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আমদানি-রপ্তানিকারক সংগঠন ও এয়ার এক্সপ্রেস খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিমানবন্দরে অবতরণের পর কুরিয়ার পণ্য সিলগালা অবস্থায় কাস্টমসের তত্ত্বাবধান ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিমানবন্দরের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে আনপ্যাকিং ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেবে। এতে বিমানবন্দরের ভেতরের চাপ কমার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসের জন্য বিকল্প কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স চালুর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে এনবিআর সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

বিডার নির্বাহী সদস্য ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে পণ্যজট বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় এনবিআরের নেওয়া উদ্যোগকে বিডা স্বাগত জানায় এবং দ্রুত বাস্তবায়নে সব স্টেকহোল্ডার একসঙ্গে কাজ করবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো পণ্যের নমুনা ও স্বল্পমূল্যের চালান ছাড় করাতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরের বাইরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু থাকায় দ্রুত পণ্য সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থা চালুর জন্য এনবিআর একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিকল্প ক্লিয়ারেন্স কেন্দ্র অবশ্যই বিমানবন্দরের ২০–২৫ কিলোমিটারের মধ্যেই স্থাপন করা উচিত।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। তিনি প্রস্তাব দেন, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে একাধিক ফ্রেইট ফরওয়ার্ড ও এক্সপ্রেস কোম্পানিকে নিয়ে কনসোর্টিয়াম গঠন করে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কমবে এবং এটি ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি ২০২৫-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানির লিড টাইম কমাতে সহায়ক হবে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *