অভিজাত এলাকায় করদাতার খোঁজে ডোর-টু-ডোর জরিপ হবে

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read

অভিজাত এলাকায় কর ফাঁকি রোধে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ডোর-টু-ডোর জরিপ চালানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর নথি যাচাই করা হবে। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক উচ্চ আয়ের ব্যক্তি বাড়ি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্পেস কিংবা বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হলেও প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নে দেখান না। অনেকে কোটি টাকার সম্পত্তি কেনাবেচা করলেও কর নথিতে তার প্রতিফলন থাকে না। একইভাবে অভিজাত এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও সঠিকভাবে ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজস্ব বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন করদাতা শনাক্ত এবং করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এসব এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রামের খুলশীসহ বিভাগীয় শহরগুলোর অভিজাত এলাকাও এই জরিপের আওতায় আসতে পারে।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে করজাল বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অভিজাত এলাকায় সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর নথি যাচাই এবং সম্পদের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডোর-টু-ডোর জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সঠিকভাবে জরিপ করা গেলে হাজার হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে আগামী বাজেটে সম্পদ কর আরোপের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর আরোপ করা গেলে বছরে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হতে পারে। এ জন্য জমির মৌজামূল্য বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজও চলছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনতে ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোর শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও বড় বড় শোরুমে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে আগামী বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী নতুন শিল্প খাতে সীমিত সময়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কিছু খাতে কর ছাড় পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *