ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা ও সাহস জুগিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাহলভি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়নের শিকার ইরানি জনগণ পরিবর্তন চায় এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রত্যাশা করছে। তিনি জানান, ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত মানুষকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।
পাহলভির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের বিশৃঙ্খলা ও সহিংস শাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে ইরানি জনগণ বড় ঝুঁকি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দাবি করেন, জনগণ তাঁকে একটি দায়িত্ব দিয়েছে—এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে এনেছিল, তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা।
তিনি আরও বলেন, ইরানের জন্য একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে এবং সে বিষয়ে জনসমর্থনও পাওয়া যাচ্ছে। মুক্ত বিশ্বের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকলে স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অতীতে যেভাবে বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, তা আবার ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি উপেক্ষা করবে না।
ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এসব মন্তব্য আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
