সিনেমার পর্দা থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর প্রথম সপ্তাহেই একের পর এক বিতর্ক, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। নতুন দল টিভিকে নেতৃত্বাধীন সরকারের শুরুটা ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, এ কি কেবল অভিজ্ঞতার অভাব, নাকি জোটনির্ভর সরকারের অস্থিরতা?
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নাটকীয় নানা ঘটনায় আলোচনায় আসে বিজয় সরকার। নিজের ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রাধান পন্ডিতকে বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিজয়। একদিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার।
এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের পাশাপাশি জোটসঙ্গী কংগ্রেস, ভিসিকে ও বাম দলগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। সমালোচকদের অভিযোগ, করদাতাদের অর্থে কুসংস্কারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছিল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, জনমতের চাপে দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল করার মধ্য দিয়ে বিজয় নমনীয়তারও পরিচয় দিয়েছেন। যদিও প্রথম সপ্তাহেই এমন বিতর্ক সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
এরপর নতুন বিতর্ক তৈরি হয় কাঞ্চিপুরামের একটি পানির ট্যাংক নির্মাণের দরপত্র নিয়ে। অভিযোগ ওঠে, মাত্র ছয় ঘণ্টার সময় দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে।
বিরোধী দল ডিএমকে এ ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ঠিকাদারি রাজনীতি’ বলে অভিযোগ তোলে। যদিও সরকার বিষয়টিকে প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করে পরে দরপত্র বাতিল করে।
এ নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় প্রশ্ন উঠেছে, বিজয় কি বিরোধীদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করছেন, নাকি জোটের ভারসাম্য রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়েছেন?
বর্তমানে বিধানসভায় টিভিকে-এর ১০৭ জন সদস্য রয়েছে। সরকার টিকিয়ে রাখতে ছোট ছোট মিত্র দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বিজয়কে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বাস্তবতায় সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোট রাজনীতির চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ক্ষমতায় এসেই বিজয় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনা মূল্যে বিদ্যুতের ঘোষণা দেন। তবে পরে জানানো হয়, দুই মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ ইউনিট ব্যবহারকারীরাই কেবল এ সুবিধা পাবেন।
এ সিদ্ধান্তেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই একে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন। জবাবে বিজয় আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের কোষাগার প্রায় খালি অবস্থায় পাওয়া গেছে।
এদিকে সচিবালয়ে প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে বিজয়ের বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি কার্যক্রমকে ‘রিল কালচার’-এ পরিণত করা হচ্ছে।
পরে টিভিকে জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক থামেনি। কেউ একে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের আধুনিক মাধ্যম বলছেন, আবার কেউ এটিকে প্রশাসনের অপ্রয়োজনীয় প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
