ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখতেই ওয়াশিংটনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানে অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। তবে অস্ট্রিয়ার সংবিধানসম্মত নিরপেক্ষতার নীতির কারণে সে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইউরোপের অন্যান্য দেশও এই সংঘাত নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্পেন ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে ইতালিও সম্প্রতি সিসিলিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু করে, যা ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বর্তমানে সংঘাতের ৩৪তম দিন চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। তিনি বলেন, যেকোনো চাপের মধ্যেও দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ন্যাটোর দায়িত্ব নয়; এটি মূলত ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত একটি সামরিক জোট।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সতর্ক অবস্থান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত হওয়া থেকে ঠেকানোর একটি কৌশল হতে পারে।
