লিটন দাসের ব্যাটে রান, মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞ ইনিংস আর তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে আবারও টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৭৮ রানের জয় তুলে নিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে স্বাগতিকরা।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতেও একই ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১২১ রান, হাতে ছিল তিন উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিনটি উইকেট।
পঞ্চম দিনের খেলা বৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে দিনের দশম ওভারে সাজিদ খানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ২৮ রান করা সাজিদকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮তমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
এরপর বেশি সময় টিকতে পারেননি রিজওয়ানও। শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৬৬ বলে ৯৪ রান করেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
রিজওয়ানের বিদায়ের পর দ্রুতই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। খুররম শাহজাদকে শূন্য রানে ফিরিয়ে সফরকারীদের ৩৫৮ রানে অলআউট করেন তাইজুল।
ম্যাচে ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তাইজুল। নাহিদ রানা নেন দুটি উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি করে উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান করে। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৩২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ ও লিটন দাসের ৬৯ রানে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ৩৯০ রান।
প্রথম ইনিংসে ১২৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করায় ম্যাচসেরা হন লিটন দাস। আর চার ইনিংসে মোট ২৫৩ রান করে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন মুশফিকুর রহিম।
