ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত। এরই মধ্যে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থী বাছাই।
ঢাকা-১৯ আসনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভোটার রয়েছেন। তবে আসনের সীমানা পরিবর্তিত হলে ভোটার সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হতে পারে। সরকারের পতনের পর এ আসনের রাজনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বিএনপি-জামায়াতের দলীয় কার্যালয়গুলোতে এখন নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, উঠান বৈঠক ও পথসভার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে— গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বাধিক ত্যাগ স্বীকার, সততা ও ভালো চরিত্রের স্বীকৃতি, এলাকায় জনভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ নীতির ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা;
ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু
সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেছেন এবং প্রায় অর্ধশত মামলার আসামি ছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়, তরুণ-যুবকদের সাথে নিয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন।
রাশেদুল আহসান রাশেদ
ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে বর্তমানে ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুম ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। সৎ, সাহসী ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এবারও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।
জামাল উদ্দিন সরকার
সাভার উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই মেয়াদে তেতুলজোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আইয়ুব খান
ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। দলের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।
অন্যান্য দলের প্রার্থীরা :
এডভোকেট শেখ শওকত হোসেন
গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ঢাকা-১৯ আসনে মনোনীত প্রার্থী। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার কারণে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে সুনাম রয়েছে।
মাওলানা আফজাল হুসাইন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার সেক্রেটারি এবং এ আসনের মনোনীত প্রার্থী। সততা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য পরিচিত। যোগাযোগ উন্নয়ন, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি রোধে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট, ঢাকা-১৯ আসনের ভোটারদের মধ্যে আশা জাগছে যে এবারের নির্বাচন অতীতের তুলনায় অনেক বেশি অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মন জয় করতে না পারলে কোনো প্রার্থীর জন্য জয়লাভ করা সহজ হবে না।
