তোষাখানা মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

সরকারি উপহার আত্মসাতের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার ঘোষিত এই রায়ে তাদের বিরুদ্ধে তোষাখানা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মত দিয়েছেন।

আদালতের রায় অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে পাওয়া দামী উপহার বিধি ভেঙে কম মূল্যে নিজেদের নামে নেওয়ার দায়ে এ সাজা দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই ইমরান খান ও বুশরা বিবি অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

তোষাখানা মামলার অভিযোগ কী

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খান সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া মূল্যবান গয়নাসহ সরকারি উপহার বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে কিনে নেন। নিয়ম অনুযায়ী এসব উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয় অথবা নির্ধারিত বাজারমূল্য পরিশোধ করে ব্যক্তিগতভাবে রাখা যায়।

প্রসিকিউশনের দাবি, যেসব গয়নার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার, সেগুলো ইমরান খান ও তার স্ত্রী মাত্র ১০ হাজার ডলারে কিনে নেন। পরে সেগুলো বিক্রি করে আর্থিক লাভ করেন বলেও অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন দম্পতি।

ইমরানের আইনজীবী রানা মুদাসসার উমর রায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিবাদীপক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে না শুনেই আদালত এই সাজা ঘোষণা করেছে।

পিটিআইয়ের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পরপরই ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একে ‘বিচারিক প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই সাজা দেওয়া হয়েছে এবং আইনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পিটিআই জানিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিল করা হবে। ইমরানের আরেক আইনজীবী সালমান সাফদার জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

কারাবন্দি ইমরানের বর্তমান অবস্থা

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলা চলছে।

তোষাখানা মামলায় ঘোষিত ১৭ বছরের সাজার মধ্যে ১০ বছর কঠোর কারাদণ্ড এবং ৭ বছর দুর্নীতির ধারায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের মামলায়ও তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

- Advertisement -

সম্প্রতি ইমরানের বোন ডা. উজমা খানম কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান, তাকে একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় একাকী রাখা হচ্ছে। তিনি এটিকে মানসিক নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করেন।

সব অভিযোগ ও সাজা সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনো দৃশ্যমান। কারাবন্দি হওয়ার পর গত দুই বছরে তার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে একাধিকবার বিক্ষোভ করেছে তার সমর্থকরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *