আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ফেলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিটিআরসির সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক জালাল উদ্দীন আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংস্থার কমিশনার পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হলো।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, সাবেক চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, সাবেক কমিশনার মো. রেজাউল কাদের এবং মো. আমিনুল হাসান।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিআরসি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক কলের রেট ০.০৩ ডলার থেকে কমিয়ে ০.০১৫ ডলার করে এবং সরকারের রেভিনিউ শেয়ার ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৪০ শতাংশে আনে। একই সঙ্গে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের শেয়ার ১৩.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। অভিযোগ মতে, এসব অবৈধ সিদ্ধান্তে কল রেট কমানোর কারণে ২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, রেভিনিউ শেয়ার কমানোয় ৩৮৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা না আনায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪১৮ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা হয়েছে।
মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানও চলছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান থাকার সময় বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ব্যবহার করে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দুদকের কমিশনার হওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে নিজের নামে ১০ কাঠার প্লট নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা বিধিমালার বিরুদ্ধে। তার ও স্ত্রীর নামে পূর্বেও দুটি ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দ ছিল, যা সমর্পণের নিয়ম থাকলেও তিনি তা না করে প্রভাব খাটিয়ে নতুন বড় প্লট নিয়েছেন।
এরই মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর জহুরুল হকের পাসপোর্ট বাতিল ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
