ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা এবং পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, ফলে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখালেন। যদিও শপথের আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রথম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমানসহ নতুন এমপিরা সংসদ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশি ও বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করার পর এখন সকলের নজর বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের দিকে, যা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভার প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুন মুখের সম্ভাবনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে, যার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরু করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দীন আহমদ। এর পর একে একে শেখ মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ মনসুর আলী, শাহ আজিজুর রহমান, আতাউর রহমান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া দু’বার এবং শেখ হাসিনা ৫ বার (তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন) প্রধানমন্ত্রী হন।
