ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল–মত, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, নাগরিকেরা যেন স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠান পালন করতে পারে এবং নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে এমন পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’ তিনি আরও বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার নীতিতে সরকার অটল রয়েছে এবং অতীতেও তা করা হয়নি।

তিনি বলেন, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। বিশ্বাসী–অবিশ্বাসী সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের সব ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ সময় তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের কখনো সংখ্যালঘু ভাবার প্রয়োজন নেই।

বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক পরিহার—এই নীতিগুলো মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার পাশাপাশি ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করলে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *