জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (নাকসু) নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অবশেষে নাকসু অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা কাটেনি।
গত বছরের ৩১ আগস্ট নাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের জেনাস ভৌমিক, ফোকলোর বিভাগের ঐশ্বর্য সরকার হৃদয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের দেবদূত কর তীর্থ, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মো. ইলিয়াস এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. নয়ন। আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান এবং নাকসু নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে নাকসু অনুমোদনের পথে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নাকসু গঠনতন্ত্র চূড়ান্তকরণে গঠিত ৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রথম সভা ডেকেছে। আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইউজিসি ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। সভায় খসড়া গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক ধরে ছাত্র সংসদ কার্যক্রম না থাকায় শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে, যা পরবর্তীতে ইউজিসিতে পাঠানো হয়। তবে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সানোয়ার রাব্বী বলেন, “নাকসু নিয়ে প্রশাসনের টালবাহানায় আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা সবসময় চেয়েছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবে। কিন্তু সাড়ে তিন মাস আগে ইউজিসিতে আবেদন করা হলেও এখনো নাকসু আইনত বৈধ হয়নি। ১৯ তারিখে নীতিমালা গৃহীত না হলে এই ক্ষোভ স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলে রূপ নিতে পারে।”
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী দেবদূত কর তীর্থ বলেন, নাকসু নির্বাচনের দাবিতে আমরা অনলাইন-অফলাইনে আন্দোলন করেছি, অনশন করেছি। বারবার আশ্বাস পেলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখিনি। ১৯ তারিখে আমরা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চাই, কোনো টালবাহানা নয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ইউজিসির আসন্ন সভার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নাকসু নির্বাচন বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ।
