ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আকাশপথে ঝুঁকি বাড়ায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যগামী তাদের সব ফ্লাইট ‘হোল্ড’ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই, কাতার ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী অধিকাংশ বিদেশি এয়ারলাইনসও উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি
ফ্লাইট স্থগিতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজারো যাত্রী টার্মিনালে আটকা পড়েন। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
আটকে পড়া যাত্রীদের পরিস্থিতি দেখতে শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে যান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে হোটেল ব্যবস্থা, খাবার সরবরাহ এবং নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ফিরিয়ে আনা হলো ফ্লাইট
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিজি-৩৪৯ নম্বর ফ্লাইটটি নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঝপথ থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের সব মধ্যপ্রাচ্যগামী উড়োজাহাজ বর্তমানে গ্রাউন্ডেড রাখা হয়েছে। দুবাইয়ে অবস্থানরত একটি ফ্লাইট নিরাপদে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও কুয়েতগামী যাত্রীদের অপ্রয়োজনে বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের কল সেন্টার ১৩৬৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এয়ারলাইনসগুলোকে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য এসএমএস, ই-মেইল বা কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগে যাত্রীদের জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের ট্রাভেল এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
