প্রান্তিক পোলট্রি খামারিরা বড় কর্পোরেট ও সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানের মুখে পড়ছে। বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) শনিবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিম ও মুরগির দাম কম থাকার কারণে খামারিরা গত সাত মাস ধরে ক্ষতির সম্মুখীন। অব্যাহত এই পরিস্থিতি পোলট্রি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্যও হুমকি তৈরি করছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, “বাজারে কয়েকটি বড় কর্পোরেট গ্রুপ, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কিছু সদস্য ও অসাধু ব্যবসায়ীর সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র খামারি ও ভোক্তাদের উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
তিনি আরও জানান, গত সাত মাসে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রতি কেজি মুরগিতে ৪০–৫০ টাকা এবং প্রতিটি ডিমে ৩–৪ টাকা লোকসান হয়েছে। রমজান ও ঈদ উপলক্ষে মুরগির বাচ্চার দাম ৩০ টাকা থেকে ৮০–৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এছাড়া বাজারে পৌঁছানোর আগেই সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, ফলে খামারিরা খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধ উচ্চমূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঋণ বোঝা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে অনেক প্রান্তিক খামারি আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। অনেক খামারও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বিপিএ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো: প্রান্তিক খামারির জন্য কৃষক কার্ড; সিন্ডিকেট ও কর্পোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত; খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা; প্রান্তিক খামারির জন্য ন্যায্য মূল্য ও সুরক্ষা; বাজারে স্থিতিশীলতা ও সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা; সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ।
