বাঞ্ছারামপুরে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
‘সচেতন মহিলা সমাজ’ ব্যানারে গত ১১ অক্টোবরের মিছিল, ছবি - সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের অংশ হিসেবে তাঁকে বাঞ্ছারামপুর আসনে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এ খবর প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে জোনায়েদ সাকির সমর্থকসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই এই আচরণের নিন্দা জানান।

গত ১১ অক্টোবর বিকেলে উপজেলা সদরে ‘বাঞ্ছারামপুর সচেতন মহিলা সমাজ’ ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ঝাড়ু, শ্লোগানে শ্লোগানে তারা জোনায়েদ সাকিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই ‘সচেতন মহিলা সমাজ’ আসলে কারা? স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এটি কোনো নিবন্ধিত বা স্থায়ী সংগঠন নয়। বরং উপজেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার ইন্ধনে মনোনয়ন–রাজনীতি ঘিরে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই এই কর্মসূচি করা হয়।

একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাম রাজনীতি আর ধর্মবিরোধী উস্কানি ছড়িয়ে বিএনপির হাইকমান্ডকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছিল স্থানীয় নেতারা। জোনায়েদ সাকিকে প্রার্থী করা হলে বিজয় অনিশ্চিত হবে এটাই ছিল আসল লক্ষ্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ (বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের বড়কান্দি ও ছলিমগঞ্জ ইউনিয়ন) আসনটি বহুদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ এ তিনজনই মনোনয়নপ্রত্যাশী।

স্থানীয়দের মতে, জোনায়েদ সাকির জন্য এই আসন ছাড়ার খবর প্রকাশের পর থেকেই ওই তিনজনের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদেরই একটি অংশ ‘সচেতন মহিলা সমাজ’ নাম ব্যবহার করে মাঠে নামে।

বাঞ্ছারামপুরে ‘সচেতন মহিলা সমাজ’ নামে কোনো সংগঠনের সরকারি বা সামাজিক রেকর্ডই নেই এমনকি স্থানীয় কেউই এ সংগঠনের সাথে পরিচিত নয়।

একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ভাতার কার্ড, নগদ অর্থ বা ভবিষ্যতে সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে অসহায় নারীদের বিক্ষোভে নামান। নিউজনেক্সটের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আছিয়া ও সানজিদা নামে ওই সংগঠনের দুই নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাঞ্ছারামপুর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি বিএনপির কোনো কর্মসূচি নয়। জোনায়েদ সাকির বক্তব্যে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত পেয়েছে, তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারীরা রাস্তায় নেমেছেন।’ বিএনপি নেতার বক্তব্য ‘স্বতঃস্ফূর্তভাবে নারীরা রাস্তায় নেমেছেন’ স্থানীয় রাজনীতিতে নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন এমন অস্তিত্বহীন সংগঠনের কর্মকান্ড নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন বক্তব্য দিলেন মেহেদী হাসান পলাশ?

- Advertisement -

স্থানীয়রা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। মনোনয়ন রাজনীতির লড়াইয়েই এমন নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে জোনায়েদ সাকির সমর্থকসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই এই আচরণের নিন্দা জানান। স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারী গাজী তামীম লিখেছেন, বাঞ্ছারামপুর থেকে নোংরা রাজনীতি বন্ধ না করলে তরুণ প্রজন্ম আপনাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এই ধরনের সংগঠন তৈরি করে আন্দোলন সংস্কৃতি শেষ না হলে বাঞ্ছারামপুরে রাজনীতি আরও নোংরা আকার ধারণ করবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *