বিএসইসির কড়াকড়ি ৪৪ কোম্পানিকে দ্রুত তহবিল জমার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

বিনিয়োগকারীদের অনাদায়ী অথচ প্রাপ্য ডিভিডেন্ডের অর্থ দ্রুততম সময়ে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ (সিএমএসএফ)-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিএসইসির নির্দেশনায় ৪৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে তাঁদের কাছে থাকা অবন্টিত বা দাবিহীন ক্যাশ ও বোনাস ডিভিডেন্ডের অর্থ সিএমএসএফ-এ জমা দিতে হবে। এসব কোম্পানির কাছে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার দাবিহীন ডিভিডেন্ড রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকাই বোনাস শেয়ারের রূপে এবং বাকিটা নগদ ডিভিডেন্ড হিসেবে সিএমএসএফ সূত্রে জানা গেছে।

২০২১ সালে বিনিয়োগকারীদের অব্যবহৃত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত সিএমএসএফ-এর তহবিলে এসব অর্থ জমা দিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের দাবিকৃত অর্থ ভবিষ্যতে ক্লেইম করতে পারেন।

এই দাবিহীন অর্থ ধারণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ইবনে সিনা ফার্মা, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, পদ্মা অয়েল, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, সিঙ্গার বাংলাদেশ, মুন্ন সিরামিক, জি কিউ বল পেন, সমরিতা হাসপাতাল, নাভানা সিএনজি এবং মাকসন্স স্পিনিং মিলসসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।

বৈঠকে বিএসইসি, সিএমএসএফ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতিতে অবন্টিত ডিভিডেন্ড ও সাবস্ক্রিপশন মানি সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়।

সিএমএসএফ কর্মকর্তারা জানান, কিছু কোম্পানি অবন্টিত ডিভিডেন্ডের হিসাব নিয়ে আপত্তি তুলেছে, আবার কিছু কোম্পানি আইন অমান্য করে সেই অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিলি করেছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তহবিল সংরক্ষণ না করে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালে ব্যবহার করেছে, যা স্পষ্ট আইনভঙ্গ।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সাধারণত প্রতি আর্থিক বছরের শেষে এজিএমে অনুমোদনের পর শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে ডিভিডেন্ড বিতরণ করে। বিধি অনুযায়ী, অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও নানা কারণে (যেমন– ভুল বা অসম্পূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) তা অনেক বিনিয়োগকারীর হাতে পৌঁছায় না।

এই অব্যবহৃত অর্থই কোম্পানিগুলোর দায় হিসেবে পৃথক অ্যাকাউন্টে রাখার কথা থাকলেও বহু প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। ফলে বিএসইসি এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত এই অর্থ সিএমএসএফ-এ স্থানান্তর করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএসইসির এই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *