বিটিএমসির বন্ধ মিলের যন্ত্রপাতি নামমাত্র দামে বিক্রির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)-এর আওতাধীন বন্ধ থাকা সাতটি মিলের বিপুল মূল্যের যন্ত্রপাতি বিনা টেন্ডারে ও সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের মেশিনারিজ মাত্র ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালককে এ ঘটনায় অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বেশ কিছু কাগজপত্র দুদকের হাতে এসেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিটিএমসির কয়েকজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স আয়েশা এন্টারপ্রাইজের কাছে এসব যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হয়। যদিও বিক্রির অর্থ বিটিএমসির হিসাবে জমা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, তবে বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি আইন ও বিধিবিধান বহির্ভূত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিটিএমসিতে ৩৫ জন কর্মকর্তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবস্থাপক, বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারীর নিয়োগ ও পদোন্নতিও অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অথচ সংস্থাটির নিয়োগ ও পদোন্নতির সব সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে হওয়ার কথা।

অন্যদিকে, বিটিএমসি ভবনের ছাদে অবস্থিত ‘রেইনি রুফটপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত এ রেস্টুরেন্টটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ রেস্টুরেন্টের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল বাবদ প্রায় ২৪ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাম প্রকাশ্যে না আনলেও বিটিএমসির শীর্ষ দুই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই রেস্টুরেন্টটি পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মিলের যন্ত্রাংশ বিক্রির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং করোনাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুটি গাড়ি কেনার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় বিটিএমসির সাবেক ও বর্তমান একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা তদন্তাধীন রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *