নতুন করে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারি চাকরি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাসের জন্য তা উপস্থাপন করা হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনে নতুন করে শৃঙ্খলাভঙ্গসংক্রান্ত চারটি ধারাকে যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর কারণে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর আনুগত্যে বিভ্রাট, শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা দায়িত্ব পালনে বাধার সৃষ্টি হলে, তিনি দণ্ডযোগ্য হবেন। একইসঙ্গে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, কর্তব্যে অবহেলা, অন্যকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা প্ররোচিত করার মতো কর্মকাণ্ডকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো:
১. কোনো কর্মচারী এমন আচরণ করলে, যার ফলে অন্য কর্মচারীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি হয়, তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. যৌক্তিক কারণ বা অনুমতি ছাড়া নিজ দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত থাকা কিংবা কর্তব্য পালনে অবহেলা করাও শাস্তিযোগ্য হবে।
৩. অন্য কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখতে উসকানি দিলে বা প্ররোচিত করলে তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
৪. অন্য কর্মচারীর কর্তব্য পালনে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে অভিযুক্ত হবেন।
এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত, পদাবনতি বা বরখাস্ত করতে পারবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এমনকি অভিযোগের নিষ্পত্তি ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে করতে হবে বলেও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে এ সংশোধনের প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছে, এই আইনটি কালো আইন হিসেবে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যা সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের বিতর্কিত আইনকে পুনর্জীবিত করা হলে সংবিধানের ১৯, ২১, ২৭, ৩১, ৩৭ ও ৩৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হবে। এতে কর্মচারীদের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, তাদের একাংশকে নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে এবং কতিপয় কর্মকর্তার দাসত্বে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
তারা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এই সংশোধনী শুধু কর্মচারীদের নিরাপত্তা হ্রাস করবে না, প্রশাসনে অস্থিরতা এবং কর্মপরিবেশে ভয়ভীতির আবহও তৈরি করবে।
