বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ায় বাধাগ্রস্ত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছন্দ হারিয়ে পাকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ১২৮ রানের জয়ে সিরিজে ১–১ সমতা ফেরায় পাকিস্তান।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। পরে বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। আফ্রিদির বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ৭ বলে ১ রান করে ফেরেন তানজিদ হাসান। এরপর সাইফ ১২ বলে ১২ রান করে আউট হন ওয়াসিম জুনিয়রের বলে। অধিনায়ক শান্তও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; আফ্রিদির বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তুলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। তখন ক্রিজে ছিলেন লিটন দাশ ও তাওহীদ হৃদয়। এ সময় ঝড়ো বাতাস ও আশপাশে বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আবার খেলা শুরু হয়।
পুনরায় খেলা শুরু হলে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। লিটন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৩৩ বলে ৪১ রান করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হলে ভেঙে যায় এই জুটি।
লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। আফিফ ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন, আর মেহেদী মিরাজ করেন মাত্র ১ রান।
এক প্রান্তে কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৮ বলে ২৮ রান করে আউট হলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেন ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। সাদাকাত মাত্র ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন। পরে তাদের শতরানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফারহান ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হন।
এরপর ইনিংস সামলান মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। দুজন মিলে ১০৮ বলে শতরানের জুটি গড়ে দলের রান এগিয়ে নেন। সালমান ৬২ বলে ৬৪ রান করে রান আউট হন, আর রিজওয়ান ৫৯ বলে ৪৪ রান করেন।
শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় পাকিস্তান।
