বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর আহ্বায়ক রাশেদ খানের পদত্যাগ

যশোর প্রতিনিধি :

2 Min Read
রাশেদ খান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক রাশেদ খান হঠাৎ করে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুলাই) রাত ২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। রাশেদ লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক পদ থেকে আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে এনসিপি ও এর ছাত্র কিংবা যুব উইংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার। কেউ কেউ হতবাক, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউবা উদ্বিগ্ন। কারণ, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে যখন দেশজুড়ে মোমবাতি প্রজ্বালন চলছে, তখন এই পদত্যাগ আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

রাশেদের ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী জানান, ফেসবুকে পদত্যাগ ঘোষণার পর রাশেদ ইনবক্সে তাকে লেখেন, ‘সারাক্ষণ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এসব আর ভালো লাগছে না।’ এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে দীর্ঘদিনের দলে অসন্তোষ, বিভাজন ও অন্তর্কলহই হয়তো তার পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ।

রাশেদ খান ছিলেন কোটা আন্দোলনের সময় যশোরে ছাত্রদের নেতৃত্বে অগ্রভাগে থাকা একজন সংগঠক। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বাম ঘরানার রাজনীতি থেকে উঠে এসে গত বছর ২৬ নভেম্বর গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির আহ্বায়ক হন। তবে এই কমিটির শুরু থেকেই ছিলো দ্বন্দ্ব আর বিভাজন। ঘোষণার পরদিনই যুগ্ম আহ্বায়ক-১ মাসুম বিল্লাহ পদত্যাগ করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও সাতজন নেতা পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে।

এরপর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সদস্যসচিব জেসিনা মোর্শেদ প্রাপ্তিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশিত অনেক কর্মসূচিতেও যশোরের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি, অনীহা এবং বিভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদের এই পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি যশোর জেলা কমিটির গভীর সংকটেরই প্রতিফলন। নেতাকর্মীদের একাংশ বলছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাশেদের অনুসারী আরও ডজনখানেক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *