সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা আজ পালিত হচ্ছে। ‘হোলি’ নামেও পরিচিত এই উৎসব বাংলাদেশে ‘দোলযাত্রা’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরভিত্তিক নানা ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে দোল উৎসব, পূজা ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় পূজা ও কীর্তন শুরু হয় এবং পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। দিনভর ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বৈষ্ণব ধর্মমতে, এ দিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধা ও সখীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দোলযাত্রার প্রচলন। এ উপলক্ষে ভক্তরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় স্থাপন করেন এবং নগর কীর্তনে অংশ নেন। অনেকেই পরস্পরকে রঙ মেখে বসন্তের এই উৎসব উদযাপন করেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এটি দোল উৎসব নামে পরিচিত হলেও উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য ভারতে এবং নেপালে ‘হোলি’ নামেই বেশি প্রচলিত। কোথাও কোথাও একে বসন্ত উৎসবও বলা হয়। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর পরিবর্তে এখন রঙিন আবির ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উৎসব পালিত হবে।
এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল এক যৌথ বিবৃতিতে দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করাই দোল উৎসবের মূল বার্তা।
