লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে অভূতপূর্ব উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে চালানো এক আকস্মিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে।
ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং সরকার পুনর্গঠনে ওয়াশিংটন সক্রিয় ভূমিকা নেবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘উপযুক্ত সময়ে’ তেলের মালিকানা ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, ট্রাম্পের নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা মূলত ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পাকাপোক্ত করার একটি কৌশল।
এর আগে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে। সেনাবাহিনীও তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রদ্রিগেজ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—দুজনই নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাবি করায় দেশটি তীব্র প্রশাসনিক ও সার্বভৌম সংকটে পড়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।
