ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার পর দেশটিতে সম্ভাব্য অস্থিরতা এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের এক বৈঠকে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান। ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মাদুরোকে ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কয়েক ঘণ্টা আগে।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান রোজেমেরি ডিকার্লোর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ভেনেজুয়েলায় অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলজুড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এর সম্ভাব্য নজির নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়, ভেনেজুয়েলা দখলের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবেই একটি ‘সার্জিক্যাল অপারেশন’ পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী সহায়তা দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস।
ওয়াল্টজ আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভাষায়, এটি ভেনেজুয়েলা বা তার জনগণের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশ দখল করতে যাচ্ছে না। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষদের কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে পশ্চিম গোলার্ধ ব্যবহৃত হতে দেবে না এবং বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি মজুদ অবৈধ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে থাকা জনগণের জন্য ক্ষতিকর।
অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা মার্কিন অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। মনকাডার দাবি, ভেনেজুয়েলায় সাংবিধানিক শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে এবং সরকার পুরো ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
বৈঠকে গুতেরেস ভেনেজুয়েলার সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। কলম্বিয়ার অনুরোধে ডাকা এই বৈঠকে তিনি মার্কিন অভিযানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে আত্মরক্ষার সহজাত অধিকারের কথা তুলে ধরে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়া, চীন ও কলম্বিয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে এটিকে অবৈধ বলে অভিহিত করে। তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় না গিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
