আজ ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস। বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার দাবিতে পালিত এ দিনটি এবার ১৩৯তম বছরে পদার্পণ করেছে। ১৮৮৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
শ্রমিকদের দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টায় সীমিত করার দাবিতে সেদিন শিকাগোর হে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আন্দোলন হয়। আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে শ্রম অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দিনটি শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশেও দিবসটি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো র্যালি, আলোচনা সভা ও স্মরণসভা আয়োজন করেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্যও শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরির দাবিকে ঘিরে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পরিবর্তনে শ্রমবাজারে প্রযুক্তির প্রভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে শ্রমিক অধিকার এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত এবং অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মে দিবস তাই শুধু স্মরণ নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্নে নতুন করে অঙ্গীকারের দিন হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত হচ্ছে।
