নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

নির্বাচন নিয়ে এখন টালবাহানা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অল্প সংস্কার না বেশি সংস্কার—এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এখন আর কথা বলার রাজনীতি নয়, সময় এসেছে বাস্তবায়নের এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের।

বুধবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তারুণ্যের সমাবেশে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তরুণরা যেন জনশক্তিতে পরিণত হয়, সেটাই বিএনপির লক্ষ্য। বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য দরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী সরকার, যা গঠনের দাবি বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও সবসময় জনগণের উন্নয়নের কথা ভাবে। জনগণই বিএনপির ক্ষমতার উৎস। তাই এখন সময় এসেছে সরাসরি মাঠে নেমে মানুষের কথা শোনার ও কাজ করার।

ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে শপথে বাধা দেওয়া স্বৈরাচারী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ। এতে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থার ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু করা যাবে না যাতে মানুষের বিশ্বাস বা আস্থার জায়গা নষ্ট হয়ে যায়।’

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, কেউ যদি রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আগে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ক্ষমতা আঁকড়ে রাজনীতি হয় না।

তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে স্পষ্ট করে বলতে চাই—আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। আবারও বলছি, ডিসেম্বরে মধ্যেই নির্বাচন দরকার। সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “জনগণের কাছে যান, তারা কী বলছে শুনুন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।”

তারেক রহমান বলেন, “দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি জানান, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিএনপি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে যারা গ্রামীণ ও অসচ্ছল, তাদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘ফারমার্স কার্ড’ চালুর কথা জানান তিনি, যাতে জমির তথ্যসহ কৃষকের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।

ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী এই তারুণ্যের সমাবেশে অংশ নেন। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *