রাঙ্গাবালীতে বিএনপির জনসভায় মানুষের ঢল, মোশাররফের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি

মাহমুদ হাসান রাজিব, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

4 Min Read
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় সাধারণ মানুষের ঢল, ছবি - মাহমুদ হাসান রাজিব/ নিউজনেক্সট

দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় পরে রাঙ্গাবালীর মাঠে গণতন্ত্রপন্থী জনতার এমন স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা শুধু এই বার্তাটি আপনাদের দিতে চাই বিগত ১৫ বছর একটি দল ক্ষমতায় থেকে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, সম্পদ লুট করেছে, সাধারণ মানুষকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমাদের নেতাকর্মীরাই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে হিন্দু ভাইদের মন্দির পাহারা দিয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করেছে, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থেকেছে। আগামী দিনেও বিএনপি জনগণের পাশে থাকবে, এজন্য দরকার আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন আপনি তখনই নেতা, যখন জনগণ আপনার সাথে থাকবে। আগামীতে যদি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় এবং জনগণ ভোট দিতে পারে, তাহলে ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠন করবে।

এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) প্রসঙ্গে বলেন,জামায়াত ১৯৯১ সালে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে ১৮টি আসন পেয়েছিল, আর নিজেরা একক ভাবে নির্বাচন করে সর্বোচ্চ ৪টা আসন পেয়েছিল। বিএনপি ছাড়া কখনও বড় সাফল্য পায়নি। আর চরমোনাইর পাখা মার্কা এখনও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি আসনও জিততে পারেনি। তাদের জেতার মতো অবস্থা এখনো নেই।

রাঙ্গাবালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে একমাত্র উপজেলা যেখানে একটি হাসপাতাল নেই, সেটি রাঙ্গাবালী। অথচ এখানে আওয়ামী লীগের দুইজন মন্ত্রী ছিলেন। তারা জনগণের উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত ছিলেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও আমি এমপি ছিলাম না, তবুও রাঙ্গাবালীর জন্য কাজ করেছি আপনাদের দাবিতে মেট্রিক ও দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র দিয়েছি, উপজেলা গঠন করেছি। তাই উন্নয়ন চাইলে আপনাদের সংসদে নিজেদের লোক পাঠাতে হবে। তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে বলা আছে, মানুষ যদি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ না নেয়, আল্লাহও তাকে সাহায্য করেন না। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেছেন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, যাদের অনেকের আয়ের উৎস নেই। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারের প্রবীণ নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হবে, যাতে তারা সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক অনুদান পাবেন।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক বাবা-মা কষ্ট করে সন্তানকে পড়ান, কিন্তু চাকরি পান না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে লেখাপড়া শেষে যুবকদের এক বছর পর্যন্ত বেকার ভাতা দেয়া হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াবেন, সহযোগিতা করবেন। বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন সবাই সমান অধিকারী। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছেন আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা রাখাইন হতে পারি, কিন্তু আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবার মর্যাদা এক। তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার, দুঃশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজি।

সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার, সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আজাদুল ইসলাম বাবুল, সাবেক সভাপতি কবির হোসেন তালুকদার, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রাকিববুল হাসান মুরাদ, বিএনপি নেতা আল-মামুন, আমিনুল ইসলাম মঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান নান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অরুণ মীর, সদস্য সচিব নিয়াজ আকন প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, শ্রমিকদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। মিছিল ও স্লোগানে মুখর ছিল পুরো উপজেলা।

 

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *