আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রায়টি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে রায় কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দণ্ডও দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। আন্দোলন দমনে জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এনসিপি আহ্বায়ক।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-অগাস্টের সহিংসতায় নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই রায়ের মাধ্যমে।
নাহিদ আরও বলেন, বিগত ১৬ বছরে গুম-খুন, পিলখানা হত্যা, শাপলা চত্বরসহ নানা অভিযোগে যে নির্যাতন হয়েছে সেসবের প্রতিফলন এই রায়।
রায় দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সন্তুষ্ট হব যেদিন রায় কার্যকর হবে। শহীদ পরিবারগুলোও তাতে শান্তি পাবে।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে ভারতে অবস্থানকারী স্থান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, শেখ হাসিনা শুধু ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সরকারপ্রধান ও দলীয় নেতৃত্বের অবস্থান থেকেও নির্দেশদাতা ছিলেন। সে কারণে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ বছরের দণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাজসাক্ষী হলেও তার ভূমিকা পুরোপুরি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তার সাজা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
